এই সময় ডেস্ক:
নিজের টাকায় বই কিনে পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন পলান সরকার। বই-এর ব্যাগ ঘাড়ে, হাতে বই সেই পলান সরকারকে আর দেখা যাবে না গ্রামের পথে পথে, শহরের গলিতে গলিতে। আজ ১লা মার্চ শুক্রবার নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান (ইন্না.......রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে কয়েকদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন বরে তাঁর ছেলে হায়দার আলী জানান।
পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা রবশি দূল এগোয় নি। মাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেনী থেকেই ইতি টানতে হয়েছে তাঁর শিক্ষা জীবনের। তবুও তিনি থেমে থাকেন নি। নিজের চেষ্টায় তিনি পড়াশোনা চারিয়ে যেতে থাকেন।
বই পড়াটাকে তিনি পাঠাগারে সীমাবদ্ধ রাখতে চান নি। এটাকে তিনি আন্দোলনে রূপ দেয়ার আশা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ইচ্ছুক পাঠকদের হাতে বই পৌঁছে দিতেন। নতুন নতুন পাঠক তৈরির জন্যও তিনি বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে আলোচনা চালিয়ে যেতেন সর্ব স্তরের মানুষের সাথে। নিজের উদ্যোগে এই মহান কাজটির জন্য তাঁকে ২০১১ সালে একুশে পদকে ভ‚ষিত করা হয়। তাঁর এই বই আন্দোলনের গল্প সারা বিশে^র ৪০টি প্রধান দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হয়।
পলান সরকারের জন্ম ১৯২১ সালে। তাঁর আসল না হারেজ। পলান তাঁর ডাক নাম। তিনি স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি প্রতিবছর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ১ম থেকে ১০ম স্থান প্রাপ্তদের একটি করে বই উপহার দিতেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি এ কাজ করেছেন। প্রথম আলো পত্রিকার পক্ষ থেকে তাঁকে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ উপাধী দেয়া হয়েছিল তাঁর বিগত কয়েক বছর আগে।
পলান সরকার তাঁর নিজ উদ্যোগে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় একধিক পাঠাগার ও বই বিতরণ কেন্দ্র গড়ে তোলেন। তিনি বলতেন ‘যেদিন আমার পায়ে হাঁটা থেমে যাবে, সেদিন এই কেন্দ্রগুলো বই পড়া আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’
Comments
Post a Comment