বিশ্ব পানি দিবসের কিছু কথা

আন্তর্জাতিক


হিমাংশু দেব বর্মণ
১০ এপ্রিল। আন্তর্জাতিক পানি দিবস। দিনটি আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশ। কিন্তু নদীগুলো সব পানিশূন্য। আর এই পানিশূন্যতা দূর করার জন্য অনন্ত কাল ধরে আমরা তাকিয়ে আছি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের দিকে। ভারত পানি দেবে এই আশা করে আমরা বারবার তাদের সাথে চক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছি। তাদের চাওয়াটা সাথে সাথেই পুরণ করছি আমরা। সেটা খুব সহজেই হচ্ছে। কিন্তু আমাদের নদীতে পানি আসতে অনেক বাধা। সে বাধা অতিক্রম করা আমাদের দেশের পক্ষে আদৌ সম্ভব হবে কি! এটা বড়ই জটিল বিষয়।
আমরা দেখেছি বিগত সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পানি দেয়ার সম্মতি ছিল আগা গোড়াই। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ছিল পানি দেয়ার বিপক্ষে। যার ফলে তখন পানি দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি তাদের। আর বর্তমানে সেদেশের কেন্দ্রীয় সরকার পানি দিতে প্রস্তুত। কিন্তু রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর ঘোর আপত্তি। তাই এবারও বাংলাদেশে পানি দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে ভারত, শতভাগ ইচ্ছে থাকা সত্তে¡ও। আমরা আশা করছি কেন্দ্রীয় সরকারের দল যদি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে পারে তাহলে আমরা অবশ্যই পানি পাব শতভাগ নিশ্চিত। তবে আমাদের এ আশাও যে একেবারেই বোকামী এতেও কোন সন্দেহ নেই। কারণ আগামী নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারে এমন সম্ভাবনা আশা করে ভারত সরকার পানিচুক্তির মধ্যে ভুটানকে টেনে এনেছে। যাতে ভুটানের দোহায় দিয়ে বাংলাদেশে পানি দেয়ার বিষয়টা আরও দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখতে পারে। মানে, যতদিন পর্যন্ত নতুন কোন ইস্যু খুঁজে না পাওয়া যায় ততদিন অন্তত মুলার আটিটি ঝুলিয়ে রাখবে তারা।
নদ নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশই তার সীমানায় বাঁধ দিয়ে জলধারা বন্ধ করে অন্যদেশের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে না। কিন্তু ভারত তা করে পার পেয়ে যাচ্ছে অনন্তকাল ধরে। তারা পানি আটকে রেখে আন্তর্জাতিক আইন অবমাননা করছে, এটা কোন জটিল বিষয় নয়। অথচ বাংলাদেশে পানি না দেয়ার জন্য খাড়া করে রাখা কিছু মিথ্যে অযুহাত, সেগুলোই বড় জটিল ব্যাপার বলে বার বার হাজির করা হয় অসহায় বাঙালির সামনে।
আজ এই আন্তর্জাতিক পানি দিবস ২০১৯-এর দিনে প্রত্যেকটা বাঙালির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষভাবে আবেদন রাখতে চাই যে, শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের যে সমস্ত দেশগুলো এমন সমস্যার মধ্যে পড়ে আছে, সে সমস্ত দেশগুলোরও এ সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করা হোক।

Comments