নুশরাত আছে অনুভবে আর প্রতিবাদে

জাতীয়

স্টাফ রিপোর্টার :
ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আগুন ঝলসানো নুশরাত রাফি বাস্তবে আমাদের মাঝে নেই। আমাদের গোটা কয়েক মানুষের আকূতি তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেনি। এখন সে আমাদের মাঝে কেবলই স্মৃতি। তনু, আফসানা, বিউটি, অরিত্রী, মীমের মতো রাফিকেও আমরা ধরে রাখতে পারিনি।
গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে আমার মেধাবী ভাই দীপ্ত সরকারের দেহের ৫৩ শতাংশ পুড়েছিল। সেই দীপ্তর বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা ছিল না বলে আগেই জানিয়েছিলেন চিকিৎসকগণ। ঠিক সে চলেও গেল আগুনের লেলিহান শিখার সাথে অদৃশ্য হয়ে।
যখন শোনা গেল নুশরাতের দেহের ৮০ শতাংশ পুড়িয়ে দিয়েছে এ যুগের মানুষরূপী ডাইনোসরেরা, তখনই আর বুঝতে বাকি ছিল না তার শেষ পরিণতির কথা। কয়েকটা দিন নুশরাত বেঁচে ছিল নিতান্তই তার প্রতিবাদের বাণীগুলো এ প্রজন্মের গোটা কয়েক প্রতিবাদী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য। যতটুকু সম্ভব বলে গেছেও সে ‘আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাব শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত... আমি সারা বাংলাদেশের কাছে বলব, সারা পৃথিবীর কাছে বলব এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য...।’
এরপর তার বাক রুদ্ধ হয়ে গেছে। না হলে আরও কিছু প্রতিবাদী কথা হয়তো শুনিয়ে যেত নুশরাত। আমরা সে সময়টুকু পর্যন্ত তাকে সবল রাখতেও ব্যর্থ হয়েছি। এ দায় আমাদের, এই প্রজন্মের। কেন যেন বারবার হেরে যাচ্ছে আমাদের প্রজন্ম। জিতে যাচ্ছে নারীলোভী অর্থলোভী পিশাচেরা।
আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পরাজয় এবং লজ্জাজনক বাস্তবতাও দেখে যেতে হলো নুশরাতকে। তার জীবিত অবস্থাতেই তারই ধর্ষক, তারই হত্যাকারীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে মিছিল করছে তারই সহপাঠীরা। সেখানে তাদের অভিভবকরাও সশরীরে উপস্থিত। আমরা পারিনি এই অপসংস্কৃতি রুখতে। বারবার লজ্জায় মুখ ঢাকছে আমার প্রজন্ম। আর কাউকে নয়, ধিক্কার জানাই নিজেকে। ধিক্ শত ধিক্ আমার কা-পুরুষ আত্মাকে।


Comments