সাহিত্য
কবি: জয়ন্তী দেবনাথ
জন্ম : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ছোট্ট শহর ‘কাকদ্বীপ’ এ ।
বড় হয়ে ওঠা ও শিক্ষা লাভ দক্ষিণ কলকাতায়। তাই গ্রাম ও শহর দুয়েরই প্রতিচ্ছবি তার অনুভূতিতে।
বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর হয়েও সাহিত্য চর্চায় অনুরাগী। সামাজিক ভাব বিনিময় সমৃদ্ধ ভাবনাই তার লেখার অন্যতম বিষবস্তু ও অনুপ্রেরণা ।
শিশুকাল থেকেই অসংখ্য পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেম সমীকরণ’ ও দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থটি হলো ‘এক মুঠো প্রেম’। এখনো পত্রিকায় লেখা চলছে নিয়মিত।
১। কখন সে আসে
জয়ন্তী দেবনাথ
কড়া না নেড়েই
ঝুপ করে নেমে এসেছিল সে
অচেনা মানুষের ভিড়ে যখন
প্রতীক্ষারত।
সুহৃদয় পথচারীদের প্রচেষ্টায় হসপিটাল বন্দী হয়েছিলেন।
বুক পকেটের ছোট মোবাইল থেকে
একটি বিদেশি নাম্বার সাথে
আরও দুটি নাম্বার মিলেছিল,
কিন্তু অপর প্রান্তের উত্তর মেলেনি।
মৃতের সনাক্তকরণ ও আর কখনো হয়নি ।
মিনিট দশেকের আলাপচারিতা
বিষয়বস্তুই ছিল 'কখন সে আসে '
তবে কি তিনি...
আজও শ্রদ্ধায় নত ভারী বাতাস
ওই মৃদুভাষী প্রবীণকে মনে করিয়ে দেয়।
২। একটা অন্যরকম দিন
অন্য দিনের মতোই
অথবা বর্ষা ঋতুর ঘ্যানঘ্যানে বৃষ্টির মত।
ক্যালেন্ডারে চলে যাওয়া তারিখগুলো থেকে ঝরছে ঘটনাবহুল বিস্ময়।
তবুও তো আগামী তারিখ আসবে।
একটা গোলাপি ঘাস ফুল দুলে দুলে
বর্ষ বরণ করছে...
ও বোধহয় এখনো ক্যালেন্ডার চেনে না।
শুধু নদীই জানে ,
কতখানি ভাঙলে পাড়-
কতখানি গড়ে ...
৩। বাকি আছে আরও
যতটুকু দেখা যায়
মেলায় সাজানো দোকানের মত
পসরা ...
জীবন- নাওয়াখাওয়া সমৃদ্ধ
পথনাটিকার মঞ্চ সাজাতে সাজাতে
প্রান্তিক বিষন্নতা...
ঝুলন্ত সূর্যের সাথে লুকোচুরি সন্ধ্যাতারার ।
এমন ক্ষনে...
একটা পাতা দিয়ে গেল দর্জি পাখিটা
৪। জলীয় জীবন
হাত ছেড়ে যাওয়া মানেই
মৃত্যু তো নয় -
স্মৃতিঘরে অবসর শব্দসি়ঁড়ি বানায়।
তবুও...
চাইলেই কি কিছুটা সময় গুছিয়ে রাখা যায়?
আমার মৃত্যুকে রেখে গেলাম
তোমার জলীয় জীবনের পায়।
৫। ওদের চোখে আমি
ভরা ফাগে যে পলাশ থেকে যন্ত্রণার
ধূসরতা চুঁইয়ে পড়ে
তাকে আমি স্বর ভাবি
আমার বর্ণে সে সুর হয়।
তুমি বলো আদিক্ষেতা...
চুর্নীর আঁকে বাঁকে আভাটুকু লেপে
ডুবে গেলে সূর্য
আমি দু-হাতে কুড়িয়ে নিয়ে আঁচল ভরি।
তুমি বলো সেকেলেপনা...
একাকী চাঁদের জ্যোৎস্না নরম হলে
তার উপরেই সাজিয়ে রাখি
আমার গোপন ইচ্ছে যত।
তুমি বলো অবুঝ আমি...
লাল পলাশ বর্ষায় ভাসা চুর্ণী
আর জানে পড়শী চাঁদ
আমি কতখানি প্রেমী।
কবি পরিচিতি :
![]() |
| কবি : জয়ন্তী দেবনাথ |
জন্ম : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ছোট্ট শহর ‘কাকদ্বীপ’ এ ।
বড় হয়ে ওঠা ও শিক্ষা লাভ দক্ষিণ কলকাতায়। তাই গ্রাম ও শহর দুয়েরই প্রতিচ্ছবি তার অনুভূতিতে।
বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর হয়েও সাহিত্য চর্চায় অনুরাগী। সামাজিক ভাব বিনিময় সমৃদ্ধ ভাবনাই তার লেখার অন্যতম বিষবস্তু ও অনুপ্রেরণা ।
শিশুকাল থেকেই অসংখ্য পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেম সমীকরণ’ ও দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থটি হলো ‘এক মুঠো প্রেম’। এখনো পত্রিকায় লেখা চলছে নিয়মিত।
১। কখন সে আসে
জয়ন্তী দেবনাথ
কড়া না নেড়েই
ঝুপ করে নেমে এসেছিল সে
অচেনা মানুষের ভিড়ে যখন
প্রতীক্ষারত।
সুহৃদয় পথচারীদের প্রচেষ্টায় হসপিটাল বন্দী হয়েছিলেন।
বুক পকেটের ছোট মোবাইল থেকে
একটি বিদেশি নাম্বার সাথে
আরও দুটি নাম্বার মিলেছিল,
কিন্তু অপর প্রান্তের উত্তর মেলেনি।
মৃতের সনাক্তকরণ ও আর কখনো হয়নি ।
মিনিট দশেকের আলাপচারিতা
বিষয়বস্তুই ছিল 'কখন সে আসে '
তবে কি তিনি...
আজও শ্রদ্ধায় নত ভারী বাতাস
ওই মৃদুভাষী প্রবীণকে মনে করিয়ে দেয়।
২। একটা অন্যরকম দিন
অন্য দিনের মতোই
অথবা বর্ষা ঋতুর ঘ্যানঘ্যানে বৃষ্টির মত।
ক্যালেন্ডারে চলে যাওয়া তারিখগুলো থেকে ঝরছে ঘটনাবহুল বিস্ময়।
তবুও তো আগামী তারিখ আসবে।
একটা গোলাপি ঘাস ফুল দুলে দুলে
বর্ষ বরণ করছে...
ও বোধহয় এখনো ক্যালেন্ডার চেনে না।
শুধু নদীই জানে ,
কতখানি ভাঙলে পাড়-
কতখানি গড়ে ...
৩। বাকি আছে আরও
যতটুকু দেখা যায়
মেলায় সাজানো দোকানের মত
পসরা ...
জীবন- নাওয়াখাওয়া সমৃদ্ধ
পথনাটিকার মঞ্চ সাজাতে সাজাতে
প্রান্তিক বিষন্নতা...
ঝুলন্ত সূর্যের সাথে লুকোচুরি সন্ধ্যাতারার ।
এমন ক্ষনে...
একটা পাতা দিয়ে গেল দর্জি পাখিটা
৪। জলীয় জীবন
হাত ছেড়ে যাওয়া মানেই
মৃত্যু তো নয় -
স্মৃতিঘরে অবসর শব্দসি়ঁড়ি বানায়।
তবুও...
চাইলেই কি কিছুটা সময় গুছিয়ে রাখা যায়?
আমার মৃত্যুকে রেখে গেলাম
তোমার জলীয় জীবনের পায়।
৫। ওদের চোখে আমি
ভরা ফাগে যে পলাশ থেকে যন্ত্রণার
ধূসরতা চুঁইয়ে পড়ে
তাকে আমি স্বর ভাবি
আমার বর্ণে সে সুর হয়।
তুমি বলো আদিক্ষেতা...
চুর্নীর আঁকে বাঁকে আভাটুকু লেপে
ডুবে গেলে সূর্য
আমি দু-হাতে কুড়িয়ে নিয়ে আঁচল ভরি।
তুমি বলো সেকেলেপনা...
একাকী চাঁদের জ্যোৎস্না নরম হলে
তার উপরেই সাজিয়ে রাখি
আমার গোপন ইচ্ছে যত।
তুমি বলো অবুঝ আমি...
লাল পলাশ বর্ষায় ভাসা চুর্ণী
আর জানে পড়শী চাঁদ
আমি কতখানি প্রেমী।

Comments
Post a Comment