শালিখায় চাষিদের বর্ষবরণ উৎসব

দেশের খবর

গরুর গাড়িতে ঘুরছেন জনৈক চাষি
স্টাফ রিপোর্টার :
১৪২৬ বাংলা সনের শুভ নববর্ষ আজ ১৪ এপ্রিল রবিবার। রমনার বর্ষবরণ আর চারুকলা ইনস্টিটিউটের নবান্নোৎসবে যোগ দিতে না পারলেও চাষিরা যে বাঙালি সস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, তার প্রমাণ মিলল মাগুরার শালিখায়। উপজেলার প্রাণকেন্দ্র আড়পাড়াতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চলে এসেছেন চাষিরা ভোর হতে না হতেই।
সচরাচর দেখা মেলে না গরুর গাড়ির। বর্তমান যন্ত্রচালিত গাড়ির প্রচলন হওয়াতে গরুর গাড়ি আর দেখা যায় না গ্রামের মেঠোপথে। কিন্তু আজ পয়লা বৈশাখে দেখা গেছে গরুর মাথায় ফুলের মালা, গাড়িতে রঙিন ছাউনি দিয়ে, গাড়োয়ান নিজে তো একজন খাঁটি বাঙালি চাষি। গাড়িতে রঙিন ছাউনির ভেতরে সওয়ারীও আছেন বসে নতুন বৌ-এর ঢং-এ। এ যের বাংলার হারিয়ে যাওয়া সেই ভাঙা চোরা রাস্তায় খটখট করে চলা গরুর গাড়িতে ঘোমটা টেনে বসে থাকা বাঙালি গৃহবধূ।
বাংলার চাষিদের যেন বাংলার মাঠ আর মেঠোপথেই মানায়। শহরের রাস্তা আর চত্বর তাঁর জন্য বড়ই বেমানান। তাঁদের উৎপাদিত ধানের নতুন চালের পায়েস রান্না করে আগে তাঁরা নিজেরাই নবান্ন উৎসব পালন করতেন গ্রামের ঘরে ঘরে। আজ সেই নবান্নের উৎসব গ্রামের ঘরে ঘরে আর দেখা যায় না। দেখা যায় শহরের মোড়ে মোড়ে আর রাজধানীর চারুকলায়। সেখানে একজন কৃষকের সশরীরে অংশ গ্রহণ দেখা যায়নি আজও। ফলে কৃষককে বিচ্ছিন্ন রেখে শহরের এই উৎসবের মধ্য দিয়ে কৃষককে কতটা মূল্যায়ন করা হয়, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন জাগে মনে। আসলে তা উপহাস নয় তো?

Comments