সম্ভাবনার চাষ মালিয়া

ফিচার

ফটকী নদীতে মালিয়া চাষ
সোহাগ হাসান সন্ধি
কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যে এক অপূর্ব মিল রয়েছে আমাদের গ্রাম বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে। যেমন পাট থেকে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা ঘরে বসেই সম্ভব। আমাদের গ্রাম বাংলার মেয়েরা আগে এটা করত। এখন তেমনটি আর দেখ মেলে না।
মাগুরা সদরের কেচুয়াডুবি গ্রামে দেখা মিলল তেমন একটি চাষ। যার নাম মালিয়া। যা থেকে সাধারণ পাটি থেকে শুরু করে শীতল পাটি, বিভিন্ন ধরণের নকশা করে উন্নতমানের পাটি তৈরি করার একমাত্র উপাদান। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই মালিয়া চাষ করে আসছেন। এ থেকে তারা পাটি বুনে বিক্রি করেন। কখনো বা শুকনো মালিয়া বিক্রি করে দেন। তাতেও যে অর্থ তারা পান, তাদের মোটামুটি ভালই লাভ থাকে বলে জানান তারা।
মাগুরার সদর ও শালিখা উপজেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত ফটকী নদীর তীরে চলছে এই মালিয়া চাষ। চাষিরা কার্তিক, অগ্রহায়ণ মাসের দিকে যখন জল কমতে শুরু করে, তখন এসব জমি থেকে মালিয়ার মুথা সংগ্রহ করে রাখে। জল যখন নিচে নেমে যায়,তখন ওই জমিতে তারা ধানের চারা দেয়ার মতো করে মালিয়ার বীজ বুনে দেন। চারাগুলো আড়াই ইঞ্চি লম্বা হলে জমিতে রোপনের উপযোগী হয়ে যায়। তখন এগুলো বীজতলা থেকে উঠিয়ে জমিতে রোপন করেন।
মালিয়ার জমিতে মাঝে মাঝে সেচ দিয়ে রাখতে হয়। কাঁচা মালিয়ার চেয়ে পাকা মালিয়াটাই উপাদান হিসেবে যোগ্য হয়ে থাকে। এ নদীতে কার্তিক, অগ্রহায়ণ থেকে জল কমে গিয়ে আর বর্ষার শুরু পর্যন্ত আবাদের উপযোগী থাকে। এ সময়ের মধ্যে মালিয়া ২বার সংগ্রহ করা যায় বলে জানান চাষিরা। এখন সমস্ত মালিয়ায় ফুল এসেছে। আর কদিন পরেই ফুলের সাথে সাথে গাছগুলোও হলুদ বর্ণ হতে দেখা যাবে। অর্থাৎ মালিয়াতে পাক এসে যাবে। তখনই চাষিরা এটা সংগ্রহ করতে শুরু করবেন।
চাষিরা জমি থেকে মালিয়া কেটে রোদে শুকিয়ে নিয়ে পাটি বোনার কাজে ব্যবহার করেন। অথবা ঘরে রেখে দেন। কাঁচা মালিয়া ঘরে রাখা যায় না। কারণ তা পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পরিমাণ রোদে শুকিয়ে নিলে তা আর কখনো নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না।
স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা নিজের উদ্যোগে সাধারণ পাটি তৈরি করেন। তারা এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ বা কারিগরি সহযোগীতা পেলে উন্নতমানের পাটি তৈরিতে সক্ষম হবেন। যা বিদেশে রপ্তানী যোগ্য হতে পারে।

Comments