সাহিত্য
১। ম্যাকডোনান্ডস
মধুমিতা বিশ্বাস
পিস হেভেনের হলরুম
মদ্যপ এজেন্সের এক্সপেরিয়েন্সিভ বিয়ার পার্টিতে
সাইকেডিলিক মাতাল
জুয়ার শেষ চালে
বুকের বামপাশে মোচড়
উফ্!
মানুষ জ্ঞানের অধিক বির্বতনবাদী
সত্যিকে মিথ্যে আর মিথ্যেকে সত্যি বলার মধ্যে হেরে যাওয়া যে ভুল
চেনা সময়ের জন্য অধিকাংশ অন্ধকারই গিলে খাচ্ছে আস্ত জীবনকে।
নীল আলো
এলভিস প্রিসলির সুরের লুকোচুরি
স্বপ্নের গতিবেগে ভারসাম্যহীন ম্যাকডোনান্ডস
কাঁধে হাত, পা টলছে, উপচে পড়া মাদকতার চিরান্ধ পর্ব
নেশাগ্রস্থ দুটি চোখ দেখে নিচ্ছে
ঝরে পড়া চার প্রহর রাত্রিকে।
২। ফজর
মধুমিতা বিশ্বাস
রাত্রির মরা চাঁদ হেলে পড়েছে
অন্তঃপুর থেকে ভেসে আসছে লাস্ট ট্রেনের হুইসেল।
পাথুরে প্লাটর্ফম, কাঠের ঘর
আধবন্ধ জানালা ভেদ করা পেঁচা, বাদুড়েয় নিঃসঙ্গ ওড়াউড়ি শব্দ।
শুন্য দৃষ্টি, মধ্যরাতের ঘোর
শীতঘুমে জেগে থাকা অর্ধায়ুস্কালের ষ্টেশন মাষ্টারের
চোখের ড্রয়ারের জমাকৃত রেজিষ্ট্রি খাতার কাটাকাটি হিসেবের সমস্ত অপরাগতা
বার্তা নিয়ে আসে পবিত্র ফজরের।
আধ্যাত্মবাদ, শতত প্রার্থনা;
হাতে তৈরি পৃথিবী নিয়ে জীবিতের মৃত্যু লেখি
ঋনগ্রস্থ জীবনের খণ্ডি সময়ে।
৩। বৃক্ষ
মধুমিতা বিশ্বাস
ষড় ঋতুর ক্রমিক ভুলে মেঘময় বসন্ত
ধু-ধু মাঠ নিস্তব্ধ চারদিক।
প্রবাহের ঘনিভূত সময়ে
নিসর্গপুর থেকে জলীয় তৃষ্ণায় ভেসে আসা মেঘরাজ
উড়াল বিদ্যায় ধর্মান্তরিত হয়ে
অন্ধকার উচ্ছাসে বৃষ্টি ঝরালো
বাতাসের ঘূর্ণিতে ফেসে গেলো সারশূন্য বৃক্ষ।
নির্বোধ জলরশ্মি, প্রহর কাঁপানো ভেজা জলের গন্ধে
গা এলানো অবমুক্ত শেকড়
দীর্ঘ সোতের আলিঙ্গনে উপভোগ করে জীবন
কঠিন তরল জলের চৌকস বাঁকে।
৪। নিউরন
মধুমিতা বিশ্বাস
আবর্তন মূলক সময়ে
নিউরনের গলিতে গ্যালভানাইজিং এর আলো পড়েছে
সচেতন মিটারে ভাসছে আভিজ্ঞতার বৈচিত্র।
আবিষ্কারের উন্মাদনায় দুর্লভ নির্ভীকতার আচরণ
রসবোধ ভুলে যুক্তিবোধে বয়ে চলা প্রহরে
ষ্ট্রিটল্যাম্পের হলদে আলোয় পারদের কাঁচে চোখ রাখা
নিস্তব্ধতার নির্বাক প্রশ্নচিহ্ন বদলে যাচ্ছে ল্যাবরোটারির বহ রঙের পদার্থের মতো।
চিন্তাশীল মাথায় স্পষ্ট মেরুকরণ
দুর্নিবার গতিতে ঘুরতে থাকে
কমলা লেবুর মত গোল পৃথিবীর প্যঁচানো পথনকঁশায়
ইতিহাস পুড়ে তীব্র তাপে।
মুখাপেক্ষি সময় সম্পর্কের বিভব-প্রভেদ সামলে
তৃতীয় মাত্রায় বিশেষ উত্তরগুলো খুঁজি
বিলুপ্তির সীমারেখায়।
৫। রক্তাভ মনুষ্য
মধুমিতা বিশ্বাস
এপ্রিলের গনগনে সূর্যের তেজসক্রিয়তা
মাটির আগুন মুখ ছাপিয়ে উঠে
ভাসছে স্টেশন ইয়ার্ড।
সুস্ফোটন পাথর, স্পষ্ট মরিচিকার ঘোর তরঙ্গে
পথে, পথ হারানো কয়লা শ্রমিক উপেন্দ্রের
ইস্পাত শরীর, নিগ্রচোখ;
নাভিশ্বাসের উত্তাপ খুঁড়ে খুঁড়ে
পুড়িয়ে চলেছি পিতলের পাঁজর
অচেনা সাইরেনের রক্তাভ মনুষ্য
বেরিয়্যাল গ্রাউন্ডে আছড়ে পরে মিশে যাচ্ছে
অপার্থিবের দোর গোড়ায়।
বোধগম্যতায় জ্বলে যাওয়া সত্তার
ধূসর বর্ণের বিমূর্ততা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে
আগুন পাঠের অভিজ্ঞতায়।
![]() |
| কবি মধুমিতা বিশ্বাস |
মধুমিতা বিশ্বাসের গুচ্ছ কবিতা
কবি পরিচিতি:
ফরিদপুর সদরে জন্ম গ্রহণ করেন বিজ্ঞান মনস্ক এই কবি মধুমিতা বিশ্বাস। সাহিত্য আর বিজ্ঞান নিয়ে তার সমস্ত লেখালেখি। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করেও তিনি সাহিত্যের প্রতি খুবই আগ্রহী। সাহিত্য আর বিজ্ঞানের মধ্যে যে একটি ধ্রুব সম্পর্ক রয়েছে তা নিয়ে তিনি গবেষণা করে যাচ্ছেন নিরলস। তার লেখার মধ্যেও সে পরিচয় পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, তিনি বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় কলাম লেখেন। এ হিসেবে কলামিস্ট হিসেবে তার একটি পরিচয় রয়েছে পাঠকদের মাঝে। তাছাড়া বর্তমানে তিনি অর্থনীতি (সম্মান শ্রেনী)নিয়ে পড়াশোনা করছেন।
ফরিদপুর সদরে জন্ম গ্রহণ করেন বিজ্ঞান মনস্ক এই কবি মধুমিতা বিশ্বাস। সাহিত্য আর বিজ্ঞান নিয়ে তার সমস্ত লেখালেখি। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করেও তিনি সাহিত্যের প্রতি খুবই আগ্রহী। সাহিত্য আর বিজ্ঞানের মধ্যে যে একটি ধ্রুব সম্পর্ক রয়েছে তা নিয়ে তিনি গবেষণা করে যাচ্ছেন নিরলস। তার লেখার মধ্যেও সে পরিচয় পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, তিনি বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় কলাম লেখেন। এ হিসেবে কলামিস্ট হিসেবে তার একটি পরিচয় রয়েছে পাঠকদের মাঝে। তাছাড়া বর্তমানে তিনি অর্থনীতি (সম্মান শ্রেনী)নিয়ে পড়াশোনা করছেন।
১। ম্যাকডোনান্ডস
মধুমিতা বিশ্বাস
পিস হেভেনের হলরুম
মদ্যপ এজেন্সের এক্সপেরিয়েন্সিভ বিয়ার পার্টিতে
সাইকেডিলিক মাতাল
জুয়ার শেষ চালে
বুকের বামপাশে মোচড়
উফ্!
মানুষ জ্ঞানের অধিক বির্বতনবাদী
সত্যিকে মিথ্যে আর মিথ্যেকে সত্যি বলার মধ্যে হেরে যাওয়া যে ভুল
চেনা সময়ের জন্য অধিকাংশ অন্ধকারই গিলে খাচ্ছে আস্ত জীবনকে।
নীল আলো
এলভিস প্রিসলির সুরের লুকোচুরি
স্বপ্নের গতিবেগে ভারসাম্যহীন ম্যাকডোনান্ডস
কাঁধে হাত, পা টলছে, উপচে পড়া মাদকতার চিরান্ধ পর্ব
নেশাগ্রস্থ দুটি চোখ দেখে নিচ্ছে
ঝরে পড়া চার প্রহর রাত্রিকে।
২। ফজর
মধুমিতা বিশ্বাস
রাত্রির মরা চাঁদ হেলে পড়েছে
অন্তঃপুর থেকে ভেসে আসছে লাস্ট ট্রেনের হুইসেল।
পাথুরে প্লাটর্ফম, কাঠের ঘর
আধবন্ধ জানালা ভেদ করা পেঁচা, বাদুড়েয় নিঃসঙ্গ ওড়াউড়ি শব্দ।
শুন্য দৃষ্টি, মধ্যরাতের ঘোর
শীতঘুমে জেগে থাকা অর্ধায়ুস্কালের ষ্টেশন মাষ্টারের
চোখের ড্রয়ারের জমাকৃত রেজিষ্ট্রি খাতার কাটাকাটি হিসেবের সমস্ত অপরাগতা
বার্তা নিয়ে আসে পবিত্র ফজরের।
আধ্যাত্মবাদ, শতত প্রার্থনা;
হাতে তৈরি পৃথিবী নিয়ে জীবিতের মৃত্যু লেখি
ঋনগ্রস্থ জীবনের খণ্ডি সময়ে।
৩। বৃক্ষ
মধুমিতা বিশ্বাস
ষড় ঋতুর ক্রমিক ভুলে মেঘময় বসন্ত
ধু-ধু মাঠ নিস্তব্ধ চারদিক।
প্রবাহের ঘনিভূত সময়ে
নিসর্গপুর থেকে জলীয় তৃষ্ণায় ভেসে আসা মেঘরাজ
উড়াল বিদ্যায় ধর্মান্তরিত হয়ে
অন্ধকার উচ্ছাসে বৃষ্টি ঝরালো
বাতাসের ঘূর্ণিতে ফেসে গেলো সারশূন্য বৃক্ষ।
নির্বোধ জলরশ্মি, প্রহর কাঁপানো ভেজা জলের গন্ধে
গা এলানো অবমুক্ত শেকড়
দীর্ঘ সোতের আলিঙ্গনে উপভোগ করে জীবন
কঠিন তরল জলের চৌকস বাঁকে।
৪। নিউরন
মধুমিতা বিশ্বাস
আবর্তন মূলক সময়ে
নিউরনের গলিতে গ্যালভানাইজিং এর আলো পড়েছে
সচেতন মিটারে ভাসছে আভিজ্ঞতার বৈচিত্র।
আবিষ্কারের উন্মাদনায় দুর্লভ নির্ভীকতার আচরণ
রসবোধ ভুলে যুক্তিবোধে বয়ে চলা প্রহরে
ষ্ট্রিটল্যাম্পের হলদে আলোয় পারদের কাঁচে চোখ রাখা
নিস্তব্ধতার নির্বাক প্রশ্নচিহ্ন বদলে যাচ্ছে ল্যাবরোটারির বহ রঙের পদার্থের মতো।
চিন্তাশীল মাথায় স্পষ্ট মেরুকরণ
দুর্নিবার গতিতে ঘুরতে থাকে
কমলা লেবুর মত গোল পৃথিবীর প্যঁচানো পথনকঁশায়
ইতিহাস পুড়ে তীব্র তাপে।
মুখাপেক্ষি সময় সম্পর্কের বিভব-প্রভেদ সামলে
তৃতীয় মাত্রায় বিশেষ উত্তরগুলো খুঁজি
বিলুপ্তির সীমারেখায়।
৫। রক্তাভ মনুষ্য
মধুমিতা বিশ্বাস
এপ্রিলের গনগনে সূর্যের তেজসক্রিয়তা
মাটির আগুন মুখ ছাপিয়ে উঠে
ভাসছে স্টেশন ইয়ার্ড।
সুস্ফোটন পাথর, স্পষ্ট মরিচিকার ঘোর তরঙ্গে
পথে, পথ হারানো কয়লা শ্রমিক উপেন্দ্রের
ইস্পাত শরীর, নিগ্রচোখ;
নাভিশ্বাসের উত্তাপ খুঁড়ে খুঁড়ে
পুড়িয়ে চলেছি পিতলের পাঁজর
অচেনা সাইরেনের রক্তাভ মনুষ্য
বেরিয়্যাল গ্রাউন্ডে আছড়ে পরে মিশে যাচ্ছে
অপার্থিবের দোর গোড়ায়।
বোধগম্যতায় জ্বলে যাওয়া সত্তার
ধূসর বর্ণের বিমূর্ততা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে
আগুন পাঠের অভিজ্ঞতায়।

Comments
Post a Comment